★★ সূরা ত্বোহা রিভিউ ★★
-মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন ক্বাদেরী।
******************************
الصلوة والسلام عليك سيدنا وحبيبنا و شفيعنا ومؤلانا وطبيب قلوبنا يارسول الله صلى الله تعالی عليه وسلم
★আল্'হাম্'দু লিল্লাহ্, ওয়াস্'সালাতু ওয়াস'সালামু আলা রাসুলিল্লাহ, ওয়া আলা আ'লিহি ওয়া আস্'হা বিহি আজ্'মাঈন।★
★প্রথমেই বলে রাখি, এখনো তাফসীর দেখিনাই,
অনুবাদ থেকেই যা বোধগম্য হয়েছে তার বিশ্লেষণ করে একটা রিভিউ উপস্থাপন করা ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র।
কোন কিছু ভুল হলে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি আল্লাহ যেন আমাকে মাফ করেন, আপনাদের অবকাশ দিচ্ছি কিছু ভুল হলে আমাকে শুধরিয়ে দিয়ে ধন্য করবেন।★
আসা যাক রিভিশনে...
পবিত্র কুরানুল কারীমের ষোলতম পারায় এবং ক্রমান্বয়ে ২০তম সূরা হলো সূরা ত্বোহা। যা মক্কায় অবতীর্ণ হয়, আয়াত সংখ্যা ১৩৫ টি এবং রুকু-৮টি।
★ আয়াতটি শুরু হয়েছে মহান আল্লাহ তায়ালা এবং তার প্রিয়তম বন্ধু হুজুরে আক্'রম্ ছায়্যিদুল মুরসালিন, রাহ্'মাতাল্লিল আলামিন মুহাম্মদ মোস্তফা ওয়াল মুজতবা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মধ্যে পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে, সে কুশল বিনিময় কোন্ ধরনের বাক্যে, কোন্ ধরনের সম্বোধন, কত মধুর ও গোপন আলাপচারীতার মাধ্যমে হয়েছে তা বুঝার সাধ্য বান্দার নাই।
এ শুধু আল্লাহ ও তার হাবীব(দ) ই ভালো জানেন।
আমরা শুধু কপালের চোখে দেখি আরবী দুটি অক্ষর তথা ﻃ-ﻪ অর্থাৎ ত্বা এবং হা।
এই দুইয়ের(অক্ষরের) হেকমত দুইজনেই(আল্লাহ ও তার রাসুল ﷺ) ভালো বুঝেন এবং জানেন।
এরপরপরেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার প্রিয় হাবীবের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ২-৩ নং আয়াত শুরু করলেন নবীজির অতুলনীয় শান বর্ণার মাধ্যমে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন( ﻣَﺎ ﺃَﻧْﺰَﻟْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻚَﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻟِﺘَﺸْﻘَﻰ) "হে আমার প্রিয় হাবীবﷺ
আমি কুর'আন এ জন্যে নাযিল করিনি যে তুমি এর দ্বারা কষ্ট পাবে বরং এটা আমি নাযিল করেছি তোমাকে যেন কোন কষ্ট করতে না হয় সেজন্যেই, অর্থাৎ এ কুর'আন মূলত তোমার জন্যেই আমি উপহার স্বরুপ নাযিল করেছি যা একটা নসিহত মাত্র-সে ব্যক্তির জন্যে,যে (আমাকে) ভয় করে।
আমি এর মাধ্যমেই তোমার কাজকে সহজ করে দিতে চাই এবং তোমার প্রকৃত মাহাত্ম্য তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে চাই যারা তোমাকে অবিশ্বাস করে তোমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে।
★৪-৮ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা স্বীয় শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্বরণ করিয়ে দিলেন।
বান্দাহকে সতর্ক করে দিলেন এই কিতাব তার কাছ থেকেই এসেছে যিনি আসমানকে ছাদ ও জমিনকে বিচানা স্বরুপ তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, আসমান ও জমিনের মধ্যে যা কিছু আছে সবই তার হাবীবের গুণগানে মশগুল।
তোমরা জোরে কথা বলো কিংবা মনে মনে গোপনে তার সবই আমি শুনতে পাই।আল্লাহ তায়ালা ছাড়া কোন মাবুদ নাই যাবতীয় উত্তম নামসমূহ তার জন্যেই (নিবেদিত)।
♦★৯ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বান্দাহকে একটা বিষয়ে স্পষ্ট করে দিলেন তা হলো তিনি তার প্রিয় রাসুলকে #ইলমে_গায়েব" তথা অদৃশ্যের(আগে পরের) সব জ্ঞানই বহু পূর্বে অন্তরে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন।
আর সেজন্যই আল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন- ﻭَﻫَﻞْ ﺃَﺗَﺎﻙَ ﺣَﺪِﻳﺚُ ﻣُﻮﺳَﻰ"অর্থাৎ-হে হাবীব ﷺ তোমার কাছে কি মূসা নবীর কাহিনী পৌঁছেছে??
উল্লেখ্য এটা যদি রাসুলের জন্য নতুন ঘটনা হতো তবে প্রশ্ন করার প্রয়োজন ছিলনা, প্রশ্ন না করে ডাইরেক্ট ঘটনাটিই বর্ণনা করতেন।
এরপর আল্লাহ তায়ালা মূসা আলাইহিসসালাম কে নবুওয়ত প্রদানের ঘটনা বর্ণনা করলেন।
এখানে ১২ নং আয়াতে একটা দারুণ শিক্ষা আছে আমাদের উম্মতে মুহাম্মাদি ﷺ এর জন্য।
তা হলো পবিত্র কোন জায়গায়(মসজীদ,রাসুলের রওজা,অলীর মাজার ইত্যাদিতে) অবশ্যই জুতা খুলে খালি পায়েই যেতে হবে, এটাই আদব, আর এ আদব মহান আল্লাহ তায়ালাই শিক্ষা দিয়েছেন হযরত মূসা নবীর মাধ্যমে।
আল্লাহ বলেন-ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻧَﺎ ﺭَﺑُّﻚَ ﻓَﺎﺧْﻠَﻊْ ﻧَﻌْﻠَﻴْﻚَ ﺇِﻧَّﻚَ ﺑِﺎﻟْﻮَﺍﺩِﻱ ﺍﻟْﻤُﻘَﺪَّﺱِ ﻃُﻮًﻯ অর্থাৎ নিশয়ই আমি,আমিই হচ্ছি তোমার মালিক,তুমি তোমার জুতো দুটো খুলে ফেলো,কেননা তুমি এখন পবিত্র "তুয়া"উপত্যকায় দাঁড়িয়ে আছো।"
★আল্লাহ তায়ালা মূসা আলাইহিসসালাম কে নবুয়ত প্রদানের পর প্রথম যে উপদেশ দিলেন তা ছিল নামায প্রতিষ্ঠারই উপদেশ।
এরপর কিয়ামত দিবসের কথা বর্ণনা করলেন।
কিয়ামত দিবস কবে হবে তা গোপন রাখার রহস্যটাও বলে দিলেন ১৫ নং আয়াতে।
মূলত গোপন রাখার কারণ হলো যাতে প্রতিটি ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন নিজ নিজ কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দেয়া যায়,এক কথায় পরীক্ষা করার জন্যেই।
★১৬-৭৩ নং আয়াত পর্যন্ত মূসা আলাইহিসসালাম ও ফেরাউনের মধ্যে সংঘটিত মু'জিজার ঘটনাগুলো সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে।
♦ এখানে দাওয়াত দেওয়ার একটা পদ্ধতি শিখিয়ে দিলেন ৪০ নং আয়াতে,
আর তা হলো ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার সময় শত্রুর সাথেও যেন নম্র ব্যবহার করে।আল্লাহ বলেন-ﻓَﻘُﻮﻟَﺎ ﻟَﻪُ ﻗَﻮْﻟًﺎ ﻟَﻴِّﻨًﺎ ﻟَﻌَﻠَّﻪُﻳَﺘَﺬَﻛَّﺮُ ﺃَﻭْ ﻳَﺨْﺸَﻰ অর্থাৎ দাওয়াত দেয়ার সময় ফেরাউনের সাথে নম্রভাবেই কথা বলে দাওয়াত দিও,এতে করে হয়তো দাওয়াত গ্রহণ করবে বা আল্লাহকে ভয় করবে।
কিভাবে মূসা নবীর লাঠি সাপ হয়ে ফেরাউনের যাদুকরের সব যাদুর সাপ খেয়ে ফেল্ল এবং ওই লাঠি দিয়েই কিভাবে সমুদ্রের উপর দিয়ে রাস্তা তৈরি করলেন, ফেরাউনকে ডুবিয়ে মারলেন তার দারুন বর্ণনা আছে।
এর মধ্যে মূসা আলাইহিসসালাম কে আল্লাহ সেই শিশু অবস্থা থেকে কিভাবে বিভিন্নভাবেই সাহায্য করে অনুগ্রহ করেছেন তার ও বর্ণনা আছে।
৫৩-৫৫ নং আয়াতে জীব ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানের তত্ত্ব দিয়েছেন অর্থাৎ কোন উদ্ভিদ জন্মানোর কৌশল, বৃষ্টির পানির উপকারীতা ও পশুদের খাবার সংরক্ষণের পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে।
★এরপর আল্লাহ তায়ালা জান্নাত জাহান্নাম ও কিয়ামত দিবসের ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। ৮৪-৯৮ নং আয়াতে "সামেরির" সেই মানুষকে বেকুব বানিয়ে গোমরাহ করার সুন্দর ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে, মূসা নবী তার ভাই হারুন কে নিজের কাওমের দায়িত্ব দিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলেন, এরই মধ্যে তার কাওমকে গোমরাহ করে দেয় সামেরি নামের এক ব্যাক্তি।
সে হযরত জিবরাইল আলাইহিসসালাম এর (ঘোড়ার) পদচিহ্ন থেকে এক মুঠো মাটি সংগ্রহ করে রেখে দেয়,সবার থেকে স্বর্ণ অলংকার নিয়ে একটা গরুর মূর্তি তৈরি করে তাতে ওই সংগৃহীত মাটি নিক্ষেপ করা মাত্রই ওই মূর্তিতে জীবন সঞ্চার হয় আর তা গরুর মতই আওয়াজ দেয়,আর সামেরি মানুষকে বল্ল এই হলো খোদা তথা প্রভু,তোমাদের মুসার ও প্রভু, সবাই ওটার পূজা করা শুরু করে, হযরত হারুন আলাইহিসসালাম নিষেধ করলে তারা জবাব দেয় মূসা নবী না আসা পর্যন্ত তারা এই মূর্তির পূজাই করে যাবে।
★ ৯৯ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন হে আমার হাবীব (দ) আমি এভাবেই এক একটা ঘটনা বর্ণনা করে তোমার উম্মতের জন্য শিক্ষা নেয়ার উপাদান দিয়ে দেব যাতে তুমি খুশি হও। তোমাকে স্মরণীকা তথা কুরান দিলামই,তবে কেউ যদি এই কুরান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তার জন্যে কিয়ামতের দিন থাকবে কঠিন ও কঠোর শাস্তি, এরপরপরেই আল্লাহ তায়ালা ১১২ নং আয়াত পর্যন্ত কিয়ামত দিবসের ভয়াভহতা বর্ণনা করেন।শিংগায় ফু দিলেই সব পাহাড় পর্বত টুকরো টুকরো হয়ে যাবে,অতঃপর সবকিছুকে মসৃণ সমতল ভূমিতে পরিণত করা হবে যাতে কোন উঁচুনিচু থাকবেনা একেবারেই সমতল থাকবে।যারা দুনিয়াতে আল্লাহর আয়াত দেখেও না দেখার ভান ধরে পাপ করে চলেছিল সেদিন তাদের অন্ধ করেই উঠানো হবে,এ ভয়ংকর পরিস্থিতিতে ভীতিবিহ্বল মানুষের পায়ে চলার মৃদু আওয়াজ ছাড়া অন্য কোন আওয়াজ শুনবেনা,দয়াময় আল্লাহর প্রচন্ড ক্ষমতার সামনে অন্য সব শব্দই ক্ষীণ হয়ে যাবে।
♦১০৯ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বড় সন্দেহের অপনোধন করে দিলেন,
তা হলো কিয়ামতের এই ভয়ানক পরিস্থিতিতে শাফায়ত তথা সুপারিশকারী কেউ থাকবে কিনা এই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়ে দিলেন এভাবে-
ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﻟَﺎ ﺗَﻨْﻔَﻊُ ﺍﻟﺸَّﻔَﺎﻋَﺔُ ﺇِﻟَّﺎ ﻣَﻦْ ﺃَﺫِﻥَ ﻟَﻪُ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦُ ﻭَﺭَﺿِﻲَ ﻟَﻪُ
ﻗَﻮْﻟًﺎ.
♦অর্থাৎ -"সেদিন আল্লাহ যাদের অনুমতি দিবেন এবং যাদের কথায় আল্লাহ সন্তুষ্ট তারা ব্যতীত আর কারো সুপারিশ কাজে আসবেনা।"
এতে করে একটা বিষয় সুস্পষ্ট হয়ে গেলে কিয়ামতের কঠিন দিনে দুই শ্রেণীর সুপারিশকারী থাকবে ১। দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দিবেন।কাকে অনুমতি দিবেন তা এই আয়াতে স্পষ্ট করে না বল্লেও বিবেকবানদের বুঝতে দেরি হবেনা।
২।যাদের কথায় আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন তারা।
কাদের কথায় আল্লাহ সন্তুষ্ট এটা কি আর বলার দরকার আছে?
কারা আবার?? সাহাবায়ে কেরামগণ,তাবেয়ীগণ, শহীদগণ,মাজহাবের ইমাম,হাদিসের ইমামগণ,
অলী,গাউছ,কুতুব,আবদাল ইত্যাদি এরাই আর কি।
আল্লাহর প্রিয় হাবীব(দ) এর চেয়ে বেশি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করেছেন এমন কেউ কি দুনিয়াতে ছিল? নাকি আছে কিংবা থাকবেন?
আল্লাহ অনুমতি দিলে ১ নম্বরে আল্লাহর ১ নম্বর হাবীব(দ) কেই তো দিবেন। যিনি ইমামুল আম্বিয়া, ছায়্যিদুল কাওনাইন ওয়াচ্ছাকালাইন, রাহমাতিল্লাহ আলামিন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে না তো কাকে সুপারিশের অনুমতি দিবেন।
অতএব স্পষ্ট এই আয়াতের পরেও যদি কেউ নবীজিকে শাফায়তের মালিক বল্লে শিরিকের গন্ধ পায় তবে সে সবচেয়ে বড় জাহেল, নাফরমান কুরান অস্বীকারকারী।
১১৪ নং আয়াতে আবারো নবীজির প্রশংসা করে আল্লাহ তায়ালা বান্দার জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য নবীজির মাধ্যমে একটা দোয়া শিখিয়ে দিলেন তা হলো-
ْ ﺭَﺏِّ ﺯِﺩْﻧِﻲﻋِﻠْﻤًﺎ
(রাব্বি জিদ্'নিই ইল্'মা)
এরপর ১২৭ নং আয়াত পর্যন্ত হযরত আদম আলাইহিসসালাম ও মা হাওয়া আলাইহিসসালাম কিভাবে কেন জান্নাত থেকে বের হলেন এবং ইবলিশ শয়তানের কুমন্ত্রণা প্রসঙ্গে বলেছেন।
★১৩০ নং আয়াতটি এত বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বলে আমি ক্ষুদ্র জ্ঞানে মনে করতেছি যা ভাষায় বর্ণনা করার সেই সাধ্য বা ভাষা কিছুই আমার নাই।
তাও অন্তত কয়েক লাইন হলেও বলার চেষ্টা করব,
ﻓَﺎﺻْﺒِﺮْ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺎ ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﻭَﺳَﺒِّﺢْ ﺑِﺤَﻤْﺪِ ﺭَﺑِّﻚَ ﻗَﺒْﻞَ ﻃُﻠُﻮﻉِ
ﺍﻟﺸَّﻤْﺲِ ﻭَﻗَﺒْﻞَ ﻏُﺮُﻭﺑِﻬَﺎ ﻭَﻣِﻦْ ﺁﻧَﺎﺀِ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻓَﺴَﺒِّﺢْ ﻭَﺃَﻃْﺮَﺍﻑَ ﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ ﻟَﻌَﻠَّﻚَﺗَﺮْﺿَﻰ
১। এখানে বলে দেয়া হলো ﻓَﺎﺻْﺒِﺮْ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺎ ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ হে আমার প্রিয় হাবীব(দ), এরা যা বলছে বা বলবে(তোমার বিরুদ্ধে,তোমাকে কটাক্ষ করে,তোমার শানে বেয়াদবী হয় এমন কথায়)তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর।(তাতে কর্ণপাত করিওনা বরং আমি নিজেই এর কঠোর প্রতিশোধ নেব কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি এদের জন্যে)।
এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করতেই হয় তা হলো
বাংলা এবং ইংরেজি গ্রামারে কাল বা Tense তিন প্রকারই আলাদা।
Past,Present, Future অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত।
past বল্লে যেমন বর্তমান বুঝায়না তেমনি present বল্লেও Future বুঝায়না। কিন্তু আরবী গ্রামারে ব্যাপারটা ভীন্ন।
আরবী গ্রামে present (মুজারে'এ) বল্লে তাতে Future(মুস্তাকবাল) ও বুঝায়,অর্থাৎ আরবীতে অতীতকাল এবং ভবিষ্যতকাল বুঝাতে একই শব্দ ব্যবহার হয়।ভীন্ন শব্দ লাগেনা।
তার মানে আরবীতে কাল দুই ভাগে বিভক্ত
১। মা'জিই তথা অতীত।
২। মুসতাকবাল তথা বর্তমান ও ভবিষ্যত।একই শব্দের মধ্যে উভয় কাল নিহিত।
উদাহরণঃ
ইংরেজিতে ও বাংলাতে তিনকালে তিন রকম শব্দ
past>> he did (সে করল)
present >>he does,(সে করে)
future >>he will do(সে করবে)
আর আরবী হলোঃ
১।ﺬﻫﺐ =সে গেল(অতীত)
২।ﻳﺬﻫﺐ =সে যায়/যাচ্চে/যাবে(বর্তমান ও ভবিষ্যত)
এতগুলো কথা বলার উদ্দেশ্য ছিল একটাই, উপরে বর্ণিত ১৩০ নং আয়াতে একটা শব্দ আছে- ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ এটাও এমন একটা শব্দ যাকে আরবীতে মুজারা এর সীগাহ বলা হয়, যা একই সাথে বর্তমান ও ভবিষ্যতের অর্থ দেয়,এর অর্থ দাড়ায় =এরা বলছে বা বলবে।
পুরো আয়াতের অর্থ দাড়ায় এভাবে,"হে রাসুল(দ)
এরা(দুশমনরা)যাই বলছে বা বলবে তুমি তাতে ধৈর্য ধারণ কর। ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥََশব্দটি একটা আ'ম তথা সাধারণ শব্দ যা কিয়ামত পর্যন্ত যেকোন সময়ের জন্য বুঝাবে, এটা নির্দিষ্ট কোন সময়ের জন্য নয়।
সুতরাং মুদ্দা কথাটা হলো হে রাসুল(দ) তোমার বিরুদ্ধে বলার লোক এখনো আছে কিয়ামতের আগ পর্যন্ত ও থাকবে, এখনো বিরুদ্ধে বলছে কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত বলবে আর এজন্যই আল্লাহ
রাব্বুল আলামিন ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ শব্দ ব্যবহার করে বল্লেন তারা যাই বলছে বা কিয়ামত পর্যন্ত বলবে তাতে তুমি ধৈর্যধারণ কর।
♦ বাস্তব সত্য হলো এই আয়াতের ২০১৮ সালেও এব্যাইলব মিল পাই, রাসুলের বিরুদ্ধে বলার মত মানুষ, নামধারী মুসলমান এখনো দেখা যায়।
রাসুলকে আমার মত সাধারণ মানুষ বলে রাসুলের সুমহান ইজ্জত ও শান মানকে খাটো করতে চায় এমন মানুষ এখনো দেখা যায়।
রাসুল(দ), দোষগুণে সাধারণ মানুষ(নাউজুবিল্লাহ), ইলমে গায়েব জানেনা,হাজির নাজির না, রাওজা তুলে ফেলে দিতে হবে,মরে গেছে,উছিলা চাওয়া যাবেনা ইত্যাদি বলার মত জঘন্য ও ঘৃণ্য মানুষগুলো যুগে যুগে ছিল এখনো আছে, থাকবে।
♦ রাসুল(দ) রাওজায় যদি জিন্দা তথা হায়াতুন্নবী না হন আল্লাহ তায়ালা কেন বলেছেন? হে নবী এরা যা বলছে এবং বলবে তাতে ধৈর্যধারণ কর।
বলতে গেলে অনেক কিছুই বলা যায়, আজ এখানেই থাক,
আয়াতের বাকী অংশে আল্লাহ তায়ালা ৫ ওয়াক্ত নামাজের সময় বলে দিলেন সূর্যদয়ের আগে ফজর,সূর্যাস্তের পর মাগরিব, রাতের একটা অংশে ইশা,এবং দিনের দুই ভাগে জোহর ও আসর।
♦ আয়াতের শেষ অংশটা আরো বেশি মাহাত্ম্যপূর্ণَْ। সেটা হলো ﻟَﻌَﻠَّﻚَﺗَﺮْﺿَﻰ হয়তো তুমি সন্তুষ্ট হবে।
এখানে ﻟَﻌَﻠَّﻚ(হয়তো) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
ইংরেজিতে may,
মানে may you will satisfy.
তার মানে তুমি সন্তুষ্ট হতেও পার আবার নাও হতে পার।ব্যাপারটা হলো হে হাবীব(দ) তোমার উম্মতের মধ্যে অনেকেই দেওয়ানা, আশেক প্রেমিক থাকবে যারা এই ৫ওয়াক্ত নামায ও আদায় করবে তোমার শানে বেয়াদবি হবে এমন কোন আচরণও করবেনা।
তাদের আমি উত্তম প্রতিদান জান্নাত দেব তুমি তাতে সন্তুষ্ট হবে,কিন্তু যারা তোমার শানে বেয়াদবি করবে তাদের যে আমি কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি দেব তা দেখে তোমার ভালো লাগবেনা
কারণ তোমাকে রাহমাতুল্লিল আলামিন (সব জাহানের জন্য দয়া মায়ার সাগর বানিয়েছি) তাই তুমি সন্তুষ্ট নাও হতে পার।
সুবহানআল্লাহ সুবহানআল্লাহ আল্লাহু আকবর।
প্রিয় নবীজি কেমন দয়াবান।
দুনিয়াতেও মক্কা বিজয়ের দিন চির শত্রুদের ক্ষমা করে দিয়ে সেই দৃষ্টান্ত দিয়ে গেলেন আল্লাহর প্রিয় রাসুল(দ)।
★ মজার বিষয় হলো সূরাটি শুরু হয়েছ রাসুলের শান মান দিয়ে ঠিক শেষ হয়েছেও রাসুলের শান মান নিয়ে মাঝখানে তো নবীজির শান ছিলই সব মিলিয়ে পুরো সূরা তো ছিল এবং অত্র সূরাতেই বলা হয়েছে পুরো কুর'আনটাই রাসুলের জন্যেই(রাসুলের শানমান তথা মর্য়াদা বৃদ্ধির জন্যেই) নাযিল করা হয়েছে। আল্লাহ কতইনা ভালোবাসেন তার প্রিয় হাবীবকে, সেই প্রিয় রাসুলের এক ফোটা ভালোবাসা যদি আমাদের কপালে জুটে যায় দুনিয়া আখিরাতে আর কিছুই চাওয়ার নাই।
আল্লাহ সবাইকে একবার হলেও নবীজির দিদার নসিব করুন- আমিন।
★ ★কোন এক কবি বলেন★★
" ব্বালা উনকি তাওসিফো কিয়া কোয়ি লেখে"
"ওয়হ ছেরতা বপা মু'জিজা বন কে আয়ে"
(তার গুণাগুণ লেখার সাধ্য আছে কার?
মাথা থেকে পা অবধি মু'জিজা যাহার।)
*******************************
মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন।
শিক্ষার্থীঃ জামিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা। অনার্সঃ রাজনীতি বিজ্ঞান,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>