Monday, May 27, 2019

অবহেলিতইয়ামেন ও সৌদিআরবের ইতিহাস

অবহেলিত ইয়ামেন ও ওহাবীবাদ প্রচারের  ইতিহাস।
        -মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন

যে ইয়ামেনের জন্য আল্লাহর রাসুল (দরুদ) দোয়া করেছেন সেই ইয়ামনে একের পর এক হামলা, ও খাদ্য সংকট তৈরি  করে দোযখ সৃষ্টি করেছে সৌদি আরব।
কিছুদিন আগে আল জাযিরার এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে ইয়ামেনের অধিবাসীরা গাছের পাতা সিদ্ধ করে ইফতার ও সেহরি হিসেবে খাচ্ছে, এখন গাছের পাতা ও ঘাস ও শেষ হতে চলছে।
সৌদি আরব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে উটের গোস্ত সহ ইফতার সামগ্রী পাঠানোর প্রহসন করে।
উল্লেখ্য যে সৌদি আরবের বর্তমান রিয়াদের পূর্ব নাম নজদ। একবার আল্লাহর রাসুল(দ) হাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করছিলেন (আল্লাহুমা বারিক লানা ফি ইয়ামানিনা ওয়া শাম) ইয়ামেন এবং শাম দেশে বরকতের জন্য দোয়া করলেন। এক সাহাবী দোয়া চলাকালীন বলে উঠলেন(ক্বালো নাজদিনা) আমাদের নজদের জন্য দোয়া করুন, নবীজি(দ) করলেননা এবং এরশাদ করলেন এই নজদ থেকেই শয়তানের শিং বের হবে সে আমার উম্মতের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টি করবে। এভাবে আরো কিছু আলামত বর্ণনা করলেন।
এখানে শয়তান বাতেল-জালেম-পথভ্রষ্টকারী অর্থে, শিং আঘাতকারী অনিষ্টকর ক্ষমতাসীন অর্থে এবং ভূমিকম্প দ্বীন-মিল্লাত-মানবতার জন্য ধ্বংসাত্মক অর্থে) -আল হাদিস(#বোখারী_শরীফ_২য়_খন্ড_১০৫০)
ড. তাহিরুল কাদেরীর লিখিত নবীদ্রোহিদের নিদর্শন বইটিতে এ প্রসঙ্গে আরো বহু হাদীস যথেষ্ট রেফারেন্স সহকারে উল্লেখ আছে।

উইকেপেডিয়ার সাহায্যে সৌদি আরবের ইতিহাস ঘাটতে গিয়ে দেখি আব্দুল ওহাব নজদী নামক শয়তানের শিং টা নজদেই অষ্টাদশ শতাব্দীতে জন্মগ্রহণ করে এবং ওহাবী আন্দোলন নামের একটা আন্দোলন করে উম্মতে মুহাম্মাদির মধ্যে ফেতনার বীজ বপন করে। তার সৃষ্ট সেই ওহাবীরাই আজ সারা বিশ্বে মুসলমানদেরকে লাঞ্চিত বঞ্চিত জাতিতে পরিণত করতে অনন্য ভূমিকা রেখেছে। আব্দুল ওহাব নজদির ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় জাজিরাতুল আরব সৌদি আরবে পরিণত হয়।

হক বাতেল পার্থক্যকারী উপরিউক্ত  হাদিস শরীফে বাতেলের ঠিকানাসহ বলে দেয়া আছে যা রিয়াদ নামধারী নজদ। নজদ থেকে নজদের দরিয়া এলাকা থেকেই বাতেল জালেম সালাফী মতবাদ অনুসারী ওহাবী মতবাদ উদ্ভব। সেখানেই তারা ১৭৪৪ সালে ব্যপক রক্তপাতের মাধ্যমে প্রথম ওহাবী রাষ্ট্র কায়েম করে এবং ১৮১৮ সালে উৎখাত হয়। ১৮২৪-এ পূণঃ দখল করে ১৮৯১-এ আবার বিতাড়িত হয়। আবার ১৯০২ সালে নজদে পূণঃ ওহাবী রাষ্ট্র করে সেখান থেকে আগ্রাসন শুরু করে ১৯২৫ থেকে ভয়ংকর গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে অন্যান্য অপশক্তির সহায়তায় আল আরব জবর দখল শুরু করে ১৯৩২-এ কেবলাভূমিকে গোত্রবাদী ওহাবীবাদী “সৌদী আরব” ঘোষণা করে, যা কলেমার চেতনা উৎখাত ইসলাম ও মুসলিম মিল্লাতের জন্য মৃত্যু সমতুল্য।

আব্দুল ওহাব নজদীর সেই উগ্রবাদী মতবাদকে তীরের ধনুক হিসেবে ব্যবহার করেছে আমেরিকা। আমেরিকার প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় তুর্কীদের থেকে মোহাম্মদ বিন সাউদরা শাসন ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে নিজেদের নাম দিয়ে সৌদি আরব প্রতিষ্ঠা করে।
১৯৪৫ সালের পরবর্তী সময়ে আমেরিকা মিলিয়ন বিলিয়ন টাকা নব্য প্রতিষ্ঠিত সৌদি আরবকে দিয়েছে ওহাবীবাদ তথা উগ্রবাদ প্রচার করার জন্য।
এব্যাপারে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত নিউজ দেখুন-
#কালের_কন্ঠ-লিংক-
#দৈনিক_ইনকিলাব - লিংক
#News24- link,

এভাবে আরো বহু দেশীয় বিদেশী পত্রিকার নিউজ স্কিনশর্টসহ আমার টাইমলাইনে দেয়া আছে।
উইকেপেডিয়াতে আব্দুল ওহাব নজদীর সাথে নজদী শব্দটা বাদ দেয়া হয়েছে কেননা নজদ একটা অভিশপ্ত এলাকা তারাও জানে, নজদী শব্দ উল্লেখ করাতে মানুষ সহজেই শয়তানের শিং হিসেবে তাকে চিহ্নিত করতে পারছে বিধায় কৌশলে সে নজদ নামটাই মুচে দেয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু সত্যকে কি চাপা দেয়া যায়??
সৌদি বাদশা অভিশপ্ত নজকে নাম পরিবর্তন করে "রিয়াদ" নামকরণ করেছে সেখানেই রাজধানী করেছে।
আমেরিকার ননির পুতুল সৌদি বাদশাদের উত্তরসূরী বর্তমান বাদশা সালমানের আমেরিকা ও ইজরাইলী প্রেমের কারণেই আজ আমরা হারিয়েছি আমাদের দ্বিতীয় কেবলা বাইতুল মুকাদ্দিস।
শুধু ইয়ামেন নয় পুরো বিশ্ব মুসলমানের চরম দূর্গতির পেছনে প্রধান ভূমিকা পালনকারী তাইয়্যিমার অনুসারী আব্দুল ওহাব নজদী ও তারই সহযোগী সৌদ পরিবার।
তাদেরই উত্তরসূরী ও অনুসারীরা আজ মুসলমানকে লাঞ্চিত, বঞ্চিত জাতিতে পরিণত করেছে।

উল্লেখ করা প্রয়োজন উইকেপিডিয়াতে আব্দুল ওহাব নজদীকে একজন ধর্মীয় পণ্ডিত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, শিরিক, বেদাতের বিরুদ্ধে ও তাওহীদের প্রতিষ্ঠাতা লেখা হয়েছে যা চরম মিথ্যাচার। বরং এগুলো ছিল অন্যায়কে বৈধতা দেয়ার কালেমালেপন বা অপকৌশল। যা তাদের কার্যাবলী দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।





No comments:

Post a Comment